1/111
Looks like no tags are added yet.
মধ্যযুগে আরব বিশ্বে রসায়ন চর্চা কী নামে পরিচিত ছিল?
আলকেমি (Alchemy)
মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা কীসের চেষ্টা করতেন?
খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের মতবাদের ভিত্তিতে মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা স্বর্ণ তৈরির ও অমরত্বের ষধ আবিষ্কারের চেষ্টা করতেন।
রসায়ন চর্চাকে গবেষণাভিত্তিক রূপ দেন কে?
জাবির ইবনে হাইয়ান (৭২১-৮১৫)। অনেকে তাঁকে 'রসায়নের জনক' বলেন।
'The Sceptical Chymist' নামে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ কে রচনা করেন?
ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট বয়েল (১৬২৭-১৬৯১)। এটি আধুনিক রসায়নের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আধুনিক রসায়নের ভিত্তি স্থাপনে কাদের অবদান উল্লেখযোগ্য?
অ্যান্টনি ল্যাভয়েসিয়ে, স্যার ফ্রান্সিস বেকন, রবার্ট বয়েল ও জন ডাল্টন।
রসায়নের মূল শাখাগুলো কী কী?
১. জৈব রসায়ন (Organic Chemistry) ২. অজৈব রসায়ন (Inorganic Chemistry) ৩. ভৌত রসায়ন (Physical Chemistry) ৪. প্রাণ রসায়ন (Biochemistry) ৫. বিশ্লেষণমূলক রসায়ন (Analytical Chemistry)
রসায়নের অন্যান্য শাখাগুলো কী কী?
পরিবেশ রসায়ন (Environmental Chemistry), নিউক্লীয় রসায়ন (Nuclear Chemistry), পলিমার রসায়ন (Polymer Chemistry), ফার্মাসিউটিক্যাল রসায়ন (Pharmaceutical Chemistry), সবুজ রসায়ন (Green Chemistry) ইত্যাদি।
ডেমোক্রিটাস কোন দেশের বিজ্ঞানী এবং তাঁর অবদান কী?
গ্রিসের বিজ্ঞানী। তিনি সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কে মত প্রকাশ করেন এবং এই ক্ষুদ্রতম কণাকে তিনি 'পরমাণু' বা 'অ্যাটম' নাম দেন।
রবার্ট বয়েলের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
গ্যাসের আয়তন ও চাপের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন (V ∝ 1/P)। মিশ্রণ ও যৌগের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। ১৬৬১ সালে সর্বপ্রথম 'Element' শব্দটি ব্যবহার করেন।
চার্লসের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
গ্যাসের আয়তন ও তাপমাত্রার মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করেন (V ∝ T)।
জন ডাল্টনের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
আংশিক চাপের সূত্র (Law of Partial Pressures) প্রণয়ন করেন এবং পরমাণু তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
অ্যাভোগেড্রোর উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
গ্যাসের আয়তন ও অণুর সংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন। অ্যাভোগেড্রো সংখ্যার পরীক্ষালব্ধ মান N_A = 6.022 × 10^23।
জোসেফ লুই গে-লুস্যাকের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
গ্যাসের চাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করেন।
মাইকেল ফ্যারাডের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
তড়িৎ বিশ্লেষণের দুটি সূত্র আবিষ্কার করেন। বৈদ্যুতিক জেনারেটর ও বেনজিন আবিষ্কার করেন। গ্যাসকে তরল করার একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
জি. এইচ. হেসের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
তাপ-রাসায়নিক বিক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আবিষ্কার করেন।
দিমিত্রি ইভানোভিচ মেন্ডেলিফের উল্লেখযোগ্য অবদান কী?
মৌলের ধর্ম পর্যবেক্ষণ করে একটি পর্যায় সূত্র প্রদান করেন। তখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ৬৩টি মৌল নিয়ে একটি ছক তৈরি করেন। তাঁকে পর্যায় সাররণির জনক বলা হয়।
সর্বপ্রথম গ্যাসের অণুগুলোর আন্তঃআকর্ষণের ধারণা প্রদান করেন কে?
রাদারফোর্ড।
সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন কে?
রাদারফোর্ড। তিনি সর্বপ্রথম গ্রহণযোগ্য পরমাণু মডেল প্রদান করেন যা রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা দূর করেন কে?
নিলস বোর। তিনি প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেন পরমাণু মডেল প্রস্তাব করেন। এ মডেলে তিনি একই সাথে পরমাণুর গঠন এবং পারমাণবিক বর্ণালি ব্যাখ্যা করেন।
অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার (বর্তমানে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলা) কৃতী সন্তান যিনি রসায়নে অবদান রেখেছেন তিনি কে?
ড. মোঃ কুদরত-এ-খুদা।
ড. কুদরত-এ-খুদা কী আবিষ্কার করেন?
১৮৯৬ সালে মারকিউরাস নাইট্রাইট [Hg2(NO2)2] যৌগ আবিষ্কার করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ১২টি যৌগিক লবণ ও সোডা থায়ো এস্টারের আবিষ্কারক।
ড. কুদরত-এ-খুদা কোন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন?
দেশীয় শিল্প স্বনির্ভরতার স্বল্প থেকে ১৯০১ সালে তিনি 'বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেড' গড়ে তোলেন; যা ছিল উপমহাদেশের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানা।
ড. কুদরত-এ-খুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কত টাকা দান করেন?
১৯২৬ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা দান করেন।
ড. কুদরত-এ-খুদা কোন ভাষায় অধ্যাপনা করতেন?
তৎকালীন সময়ে একমাত্র তিনিই অধ্যাপনায় বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেন।
ড. কুদরত-এ-খুদা কী কী সম্মাননা লাভ করেন?
ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার থেকে নাইট উপাধি লাভ করেন।
বাংলাদেশের অগ্রণী জৈব-রসায়নবিদ ও বিজ্ঞান সংগঠক কে?
ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা।
ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা কী কী উদ্ভাবন ও প্রতিষ্ঠা করেন?
প্রাকৃতিক সম্পদ ভিত্তিক গবেষণায় তিনি গাছপালা, খনিজ ও কৃত্রিম বর্জ্য থেকে গ্লুকোজ পাউডার, প্রাণীজ উৎসেচক [গ্লুকোজাইম] জুটতন্তুভিত্তিক কাগজ রংসহ প্রায় ১৮টি উদ্ভাবন শিল্প কারখানায় প্রয়োগযোগ্য করে তোলেন। তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে বিজ্ঞান গবেষণাগার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
ড. মুহম্মদ কুদরত-এ-খুদা কী কী পদক ও পুরস্কার অর্জন করেন?
পাকিস্তান সরকারের 'তঘমা-ই-ইমতিয়াজ' ও 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' এবং বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮৪) অর্জন করেন।
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার কারা পান?
জাপানি বিজ্ঞানী Susumu Kitagawa (সুসুমি কিতাগাওয়া), ব্রিটিশ বিজ্ঞানী Richard Robson (রিচার্ড রবসন) ও ফিলিপিনো বংশোদ্ভুত আমেরিকান বিজ্ঞানী Omar M. Yaghi (ওমর এম. ইয়াগি) যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
২০২৫ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার কেন দেওয়া হয়?
ধাতব-জৈবকাঠামো (মেটাল-অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস) আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের উদ্ভাবিত অণুজাতীয় কাঠামোটিতে বড় শূন্য জায়গা রয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ বা রাসায়নিক বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করা যায়।
সালফিউরিক অ্যাসিড কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জাবির ইবনে হাইয়ান, ৮০০ সালে।
কার্বন ডাই অক্সাইড কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জ্যান হেলমন্ট, ১৬৩০ সালে।
ফসফরাস কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
হেননিং ব্র্যান্ড, ১৬৬৯ সালে।
হাইড্রোজেন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
হেনরি ক্যাভেন্ডিস, ১৭৬৬ সালে।
নাইট্রিক অক্সাইড কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জোসেফ প্রিস্টলি, ১৭৭১ সালে।
ক্লোরিন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
উইলহেম শীলে, ১৭৭৪ সালে।
অক্সিজেন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জোসেফ প্রিস্টলি, ১৭৭৪ সালে।
হাইড্রোজেন সালফাইড কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
উইলহেম শীলে, ১৭৭৭ সালে।
সিলিকন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জ্যাকব বার্জেলিয়াস, ১৮২৪ সালে।
ওজোন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
ফ্রেডরিক শোনবাইন, ১৮৪০ সালে।
ইলেকট্রন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জে. জে. থমসন, ১৮৯৭ সালে।
রেডিয়াম কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
মাদাম কুরি ও পিয়েরে কুরি, ১৮৯৮ সালে।
প্লাস্টিক (বাকেলাইট) কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
লিও বেকল্যান্ড, ১৯০৯ সালে।
পারমাণবিক সংখ্যা কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
হেনরি মোসলে, ১৯১৩ সালে।
প্রোটন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড, ১৯১৯ সালে।
নিউট্রন কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
জেমস চ্যাডউইক, ১৯৩২ সালে।
অবস্থার ভিত্তিতে পদার্থকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
৩ ভাগে: ১. কঠিন পদার্থ (Solid) ২. তরল পদার্থ (Liquid) ৩. বায়বীয় পদার্থ (Gas)
উদ্ধারী পদার্থ কাকে বলে?
কিছু পদার্থ তাপমাত্রা পরিবর্তনে সরাসরি গ্যাস থেকে কঠিন বা কঠিন থেকে গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। এ পদার্থ সমূহকে উদ্ধারী পদার্থ বলে। যেমন- কর্পূর, আয়োডিন (Iodine), ন্যাপথালিন, শুষ্ক বরফ ইত্যাদি।
পদার্থের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা কী কী?
১. তরল স্ফটিক (Liquid Crystal) ২. প্লাজমা (Plasma)
তরল স্ফটিক অবস্থা কোথায় ব্যবহৃত হয়?
ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, কম্পিউটার মনিটর, টিভি স্ক্রিন, মোবাইল মেশিনের স্ক্রিন, বিভিন্ন LCD ডিসপ্লে ডিভাইস ইত্যাদিতে এ ধরনের পদার্থ ব্যবহৃত হয়।
প্লাজমা অবস্থা কী?
প্লাজমা কে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী মহাবিশ্বের প্রায় ৯৯% পদার্থই প্লাজমা অবস্থায় বিদ্যমান। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের অভ্যন্তরভাগ প্লাজমা অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। পারমাণবিক চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন (বিভাজন) প্রক্রিয়ার সময় প্লাজমা তৈরি হয়। বজ্রপাতের সময় উৎপন্ন বিদ্যুতের আলোতেও প্লাজমা তৈরি হয়। মেরুজ্যোতি (Aurora Borealis ও Australis) হলো প্রকৃতিতে প্লাজমা অবস্থার এক অনন্য দৃশ্য।
প্লাজমার ব্যবহার কী?
শিল্পকারখানায় ধাতু কাটার জন্য ব্যবহৃত প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। নিয়ন সাইন ও ফ্লোরোসেন্ট লাইটে প্লাজমার ব্যবহার হয়।
গঠন অনুসারে পদার্থকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
৩ ভাগে: ১. মৌলিক পদার্থ (Element) ২. যৌগিক পদার্থ (Compound) ৩. মিশ্র পদার্থ (Mixture)
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক কী?
একটি মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক হলো পরমাণু। এই পর্যন্ত মোট ১১৮টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রকৃতিতে বিদ্যমান। বাকি মৌলগুলো গবেষণাগারে তৈরি, যেগুলোকে কৃত্রিম মৌল বলা হয়।
যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক কী?
একটি যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম একক হলো অণু।
মৌলিক পদার্থকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
২ ভাগে: ক) ধাতু (Metal)- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), লোহা (Fe), তামা (Cu) ইত্যাদি। খ) অধাতু- হাইড্রোজেন (H), নাইট্রোজেন (N), অক্সিজেন (O) ইত্যাদি।
মিশ্রণ কাকে বলে?
যে বস্তু একাধিক উপাদানের সংমিশ্রণে তৈরি অথচ উপাদানগুলো রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ নয়, তাকে মিশ্রণ বলে।
মিশ্রণ কয় প্রকার ও কী কী?
২ প্রকার: ১. সমসত্ব মিশ্রণ (Homogeneous Mixture) ২. অসমসত্ব মিশ্রণ (Heterogeneous Mixture)
সমসত্ব মিশ্রণ কী?
এদেরকে পরিস্রাবণ প্রক্রিয়ায় পৃথক করা না গেলেও বাষ্পায়ন, পাতন প্রভৃতি সাধারণ পরীক্ষাগার পদ্ধতির সাহায্যে পৃথক করা যায়।
অসমসত্ব মিশ্রণ কী?
অসমসত্ব মিশ্রণ হতে কঠিন উপাদানকে পরিস্রাবণের মাধ্যমে পৃথক করা যায়। পরিস্রাবণ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে তরল ও কঠিন পদার্থের অসমসত্ব মিশ্রণ থেকে উপাদানসমূহকে আলাদা করা যায়।
দ্রবণ কাকে বলে?
যে মিশ্রণে একটি পদার্থ (দ্রব) অন্য একটি পদার্থ (দ্রাবক) সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয় তাকে দ্রবণ বলে। দ্রবণ শব্দের অর্থ ক্ষরণ।
দ্রবণ কয় প্রকার ও কী কী?
৩ প্রকার: ১. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution) ২. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution) ৩. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Supersaturated Solution)
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব কী কী?
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), সিলভার ক্রোমেট (Ag2CrO4), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3), ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম অক্সালেট (CaC2O4), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। স্বল্প দ্রবণীয় দ্রবগুলো পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়।
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কী কী?
সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCl), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। এদের দ্রাব্যতা অনেক গুণ বেশি তাই এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
সার্বজনীন দ্রাবক (Universal Solvent) কী?
পানি এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত একমাত্র সার্বজনীন দ্রাবক। এটি হালকা অজৈব পদার্থ (ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সিলিকা ইত্যাদি ব্যতীত) দ্রবীভূত করতে পারে। আবার পানিতে বেশ জৈব যৌগও দ্রবীভূত হয়: যেমন- গ্লিসারিন, এসিটোন, এসিটিক অ্যাসিড ইত্যাদি। এমনকি কিছু গ্যাসীয় পদার্থও পানিতে দ্রবীভূত হয়।
বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) কী?
যে দ্রবণে অল্প পরিমাণে অ্যাসিড বা ক্ষার মেশালেও তা pH মাত্রায় তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটে না, তাকে বাফার দ্রবণ বলা হয়। মানুষের রক্ত একটি প্রাকৃতিক বাফার দ্রবণ। সাধারণত দুর্বল এসিড ও তার অনুবন্ধী ক্ষার অথবা এক প্রকার দুর্বল ক্ষার ও তার অনুবন্ধী এসিড দ্বারা বাফার দ্রবণ তৈরি হয়।
সাসপেনশন (Suspension) কী?
এটি এমন একটি মিশ্রণ যেখানে কঠিন কণাগুলো একটি তরল বা গ্যাসীয় মাধ্যমে ভাসমান থাকে, কিন্তু সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয় না। উদাহরণ- মাটি ও পানির মিশ্রণ। এতে অতি ক্ষুদ্র কণাগুলো অন্য কণার মধ্যে ভসমান অবস্থায় থাকে এবং সহজে তলিয়ে যায় না। এসব কণার আকার সাধারণত ১- ১০০০ ন্যানোমিটার হয়ে থাকে। উদাহরণ- দুধ (পানি + চিনি), কেল মেঘ।
ইমালশন (Emulsion) কী?
এক বিশেষ ধরনের কোলয়েড যেখানে একটি তরলের মধ্যে অন্য কোনো অমিশ্রণীয় তরল বিন্দুকণা বিণীত অবস্থায় থাকে তাকে ইমালশন বলে। উদাহরণ- দুধ, মাখন, ডালডা, তেল।
কোয়াগুলেশন (Coagulation) বা জমাটকরণ কী?
কোয়াগুলেশন হলো এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো কোলয়েড দ্রবণে উপযুক্ত রাসায়নিক পদার্থ (যেমন ইলেক্ট্রোলাইট) যোগ করে কোলয়েড কণার স্থিতিশীলতা নষ্ট করা হয়। উদাহরণ- পানিতে থাকা মাটি ও কোলয়েড কণাগুলো অ্যালাম বা লবণ দিয়ে জমাট বাঁধিয়ে ছেঁকে ফেলা যায়। রক্তের জমাট বাঁধাও একটি প্রাকৃতিক কোয়াগুলেশন।
কণার গতিতত্ত্ব কী?
আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি এবং কণাপুঞ্জের গতিশক্তি দ্বারা পদার্থের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা ব্যাখ্যা করার তত্ত্বকেই কণার গতিতত্ত্ব বলে।
কঠিন পদার্থের কণার গতিতত্ত্ব কী?
কঠিন পদার্থে আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি সবচেয়ে বেশি এবং কণাগুলোর গতিশক্তি সবচেয়ে কম। কঠিন পদার্থে তাপ প্রদান করলে পদার্থের কণাগুলো তাপশক্তি গ্রহণ করে এবং আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি কমে যায় এবং কণাগুলো কিছুটা গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়। পদার্থের এই অবস্থাকে তরল অবস্থা বলে।
তরল পদার্থের কণার গতিতত্ত্ব কী?
তরল অবস্থায় পদার্থকে আরও বেশি তাপ দেওয়া হলে এক সময় গতিশক্তি এত বেড়ে যায় যে কণাগুলো আন্তঃকণা আকর্ষণ শক্তি ছাড়িয়ে প্রায় মুক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলভাবে ছুটে চলতে থাকে। পদার্থের এই অবস্থাকে গ্যাসীয় অবস্থা বলা হয়।
ব্যাপন (Diffusion) কী?
এই প্রক্রিয়ায় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার এলাকা থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ- ঘরের এক কোণে সুগন্ধির বোতল খোলা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সুগন্ধ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। যে পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি। যে পদার্থ ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম। গ্যাসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় যে গ্যাসের আপেক্ষিক ভর যত বেশি তার ব্যাপনের হার তত কম। যে গ্যাসের আণবিক ভর যত কম তার ব্যাপনের হার তত বেশি।
নিঃসরণ (Effusion) কী?
সরু ছিদ্রপথে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। উদাহরণস্বরূপ- একটি বেলুন ফুঁ দিয়ে ফুলিয়ে সুই দিয়ে ছিদ্র করলে দেখা যায়, বেলুনের অভ্যন্তরের উচ্চ চাপের বাতাস দ্রুত ছিদ্রপথ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং বেলুন চুপসে যায়। এছাড়া সিলিন্ডারের মুখ দিয়ে গ্যাস বের হওয়া, ফুটবল বা টায়ার পাংচার হলে ভেতর থেকে বাতাস বের হওয়া, বিভিন্ন পাত্রের ক্ষেত্রে বোতল থেকে গ্যাসরূপে সুগন্ধি বের হওয়া ইত্যাদি নিঃসরণের উদাহরণ। তাপ প্রয়োগে ব্যাপন ও নিঃসরণ উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
পদার্থের পরিবর্তনকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
২ ভাগে: ১. ভৌত পরিবর্তন ২. রাসায়নিক পরিবর্তন।
ভৌত পরিবর্তনের উদাহরণ কী কী?
বরফ গলে পানি হওয়া, কাচ ভেঙে যাওয়া, পানি বাষ্পে পরিণত হওয়া, কাগজ টুকরো টুকরো করা, লোহাকে চুম্বকে রূপান্তর করা, চিনিকে গুঁড়ি গুঁড়ি করা, মোমবাতিকে তাপ দিয়ে গলানো, ধাতু বাঁকা বা নমনীয় হওয়া।
রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ কী কী?
লোয়ে মরিচা ধরা (Fe2O3.nH2O), মোমবাতির জ্বলে যাওয়া অংশ, পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ, দুধ থেকে দই বা ছানায় রূপান্তর হওয়া, চাল সিদ্ধ করে ভাত হওয়া, দিয়াশলাই জ্বলা, গাছের পাতা হলুদ হওয়া, ফুলে পেকে লাল বা হলুদ হওয়া, সালোকসংশ্লেষণ, জ্বালানীর দহন।
গলন (Melting) কাকে বলে?
যখন কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হয়, তখন তা তরলে রূপ নেয়-এই প্রক্রিয়াকে গলন বলে।
গলনাঙ্ক কাকে বলে?
১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, তাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। উদাহরণ- বরফের গলনাঙ্ক 0°C।
স্ফুটন (Boiling) কাকে বলে?
তাপ প্রয়োগ করে যখন তরল পদার্থ গ্যাসে রূপ নেয়, তাকে স্ফুটন বলে।
স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
১ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাঙ্ক বলা হয়। উদাহরণ- পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C।
বাষ্পীভবন কাকে বলে?
যখন কোনো তরল পদার্থকে তাপ প্রদান করা হয়, তখন তা গ্যাসে পরিণত হয়-এই প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলা হয়। যেমন- গরম চা থেকে ধীরে ধীরে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া।
ঘনীভবন কাকে বলে?
যখন কোনো গ্যাসীয় বা বাস্পীয় পদার্থকে শীতল করা হয় এবং তা আবার তরলে পরিণত হয়-এই প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলা হয়। যেমন- গ্রীষ্মকালে বাতাসের জলীয় বাষ্প জমে পানি হওয়া।
পাতন (Distillation) কী?
পাতন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যখানে বাষ্পীভবন ও ঘনীভবন পরপর ঘেটে। প্রথম কোনো তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়, এরপর সেই বাষ্পকে শীতল করে আবার তরলে রূপান্তর করা হয়। অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। উদাহরণ- পানি তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করে তাপুনরায় শীতল করে পানিতে পরিণত করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।
উর্ধ্বপাতন (Sublimation) কী?
উর্ধ্বপাতন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যখানে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত না হেয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। উদাহরণ- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথালিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), আর্সেনিক (As), গন্ধক (S), বেনজোয়িক অ্যাসিড (C6H5COOH), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) প্রভৃতি। যেসব ক্ষেত্রে গ্যাসীয় পদার্থ তাপ বর্জন-মাধ্যমে তরল অবস্থায় না গিয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থায় পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে তরলহীন ভবন (Desublimation) বলা হয়।
আংশিক পাতন (Fractional distillation) কী?
যখন মিশ্রণভূত তরল উপাদানগুলোর স্ফুটনাঙ্কের পার্থক্য ৮০° সে.-এর কম হয়, তখন সাধারণ পাতনে তাদের পৃথক করা যায় না। এই ক্ষেত্রে পাতন কলাম্ব ও শীতকরের মধ্যে 'অংশ কলাম' ব্যবহার করে যে পাতন প্রক্রিয়ায় তরল উপাদানগুলো পৃথক করা হয়, একে 'আংশিক পাতন' বলে।
ক্রোমাটোগ্রাফি (Chromatography) কী?
অতি অল্প পরিমাণ অবিশুদ্ধ মিশ্রণ থেকে যৌগ উপাদানসমূহকে পৃথক করতে 'ক্রোমাটোগ্রাফি' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। 'ক্রোমাটোগ্রাফি' শব্দটির অর্থ 'রং চিত্রণ'; এটি গ্রিক শব্দ Chroma (রং) এবং Graphe (চিত্রণ) থেকে উৎপন্ন। মিশ্রণের উপাদানসমূহ স্থির দশা (যেমন- কলাম, প্লেট বা কাগজ) ও চলমান দশা (তরল বা গ্যাস) মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথক হয়।
ক্রোমাটোগ্রাফির মূলনীতি কী?
উপাদানগুলোর স্থির ও চলমান দশার অধিশোষণ ও দ্রাব্যতা ভিন্ন হওয়ার যে উপাদানের অধিশোষণ ক্ষমতা কম, তা প্রথমে এবং যার অধিশোষণ ক্ষমতা বেশি, তা পরে পৃথক হয়। স্থির মাধ্যম কঠিন হলে প্রক্রিয়াটি 'অধিশোষণ ক্রোমাটোগ্রাফি' এবং তরল হলে 'পার্টিশন ক্রোমাটোগ্রাফি' নামে পরিচিত।
ক্রোমাটোগ্রাফির কয়েকটি পদ্ধতি কী কী?
(১) কলাম ক্রোমাটোগ্রাফি (Column Chromatography) (২) পাতলা স্তর ক্রোমাটোগ্রাফি (Thin Layer Chromatography) (৩) পেপার ক্রোমাটোগ্রাফি (Paper Chromatography) (৪) গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি (Gas Chromatography)।
HPLC কী?
HPLC (High Performance Liquid Chromatography) হলো একটি বিশেষ ধরনের কলাম ক্রোমাটোগ্রাফি।
বিস্ফোরক পদার্থের উদাহরণ কী?
টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি।
স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থের উদাহরণ কী?
বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি।
দাহ্য পদার্থের উদাহরণ কী?
অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি।
তেজস্ক্রিয় পদার্থের উদাহরণ কী?
ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পদার্থের উদাহরণ কী?
লেড, মার্কারি ইত্যাদি।
বিষাক্ত পদার্থের উদাহরণ কী?
বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল ইত্যাদি।
উত্তেজক পদার্থের উদাহরণ কী?
ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি।
ক্ষত সৃষ্টিকারী পদার্থের উদাহরণ কী?
হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ ইত্যাদি।
HPLC এর পূর্ণরূপ কী? [৮ম বিজ্ঞান]
High performance liquid chromatography
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? [৪০তম বিসিএস; সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তর (প্রভাষক): ২৫]
গলনাঙ্ক